নিজস্ব প্রতিবেদক : শ্লথ লেনদেনের মধ্যেও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অব্যাহত রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে লেনদেনের গতি কিছুটা কমে আসে। বিশেষ করে মধ্যাহ্নের পর বাজারে লেনদেনের চাপ কম থাকায় দিন শেষে সূচকের মিশ্র প্রবণতার পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সামগ্রিকভাবে বর্তমান শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়েই রয়েছে। ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির ফলে প্রধান সূচক এখন ৬ হাজার পয়েন্টের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তাদের প্রত্যাশা, অল্প সময়ের মধ্যেই ডিএসইএক্স ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করবে এবং বাজারে লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তাদের মতে, গত দুই কার্যদিবসে লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ থাকলেও বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং অনেক বিনিয়োগকারী ভালো শেয়ার ধরে রাখায় বাজারে বিক্রির চাপ কমেছে, যার প্রভাব টাকার অঙ্কে লেনদেনে পড়েছে। তবে এটিকে তারা সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের কারণে বাজারে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করাই যুক্তিযুক্ত।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ২৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮১ দশমিক ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৪ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে। অন্যদিকে ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ কমেছে ১০ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট এবং দিন শেষে এর অবস্থান হয়েছে ২ হাজার ১৮১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৬০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৮০টির কমেছে এবং ৫০টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সিএসইতে মোট ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২৩টির দর বেড়েছে, ১০৩টির কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিন সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ২১৪ দশমিক ২৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে এই সূচক ৬৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।

