শেয়ারবাজারের ইতিহাসে অন্যতম বড় জালিয়াতি হিসেবে পরিচিত ‘মশিউর সিকিউরিটিজ’ কেলেঙ্কারি। এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী ৭ হাজার গ্রাহকের একজনও এখন পর্যন্ত তাদের হারানো টাকা বা শেয়ার ফেরত পাননি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও অর্থ উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সফটওয়্যার কারসাজিতে যেভাবে চলত জালিয়াতি
তদন্তে উঠে এসেছে, মশিউর সিকিউরিটিজ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করতে সুদূরপ্রসারী ও আধুনিক সব কৌশল ব্যবহার করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারে কারসাজি করে গ্রাহকদের ভুয়া পোর্টফোলিও বিবরণী পাঠাত। অর্থাৎ গ্রাহক যখন তার হিসাব দেখতেন, তখন সেখানে শেয়ারগুলো জমা আছে বলে মনে হতো। কিন্তু বাস্তবে অনেক আগেই সেগুলো বিক্রি করে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সিডিবিএল-এর সতর্কতা বার্তা যেন গ্রাহকের কাছে না পৌঁছায়, সেজন্য কৌশলে গ্রাহকের ফোন নম্বর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল।
যেভাবে ধরা পড়ল ১৬১ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি
◉ ২০২৪ সালের আগস্টে ডিএসইর এক পরিদর্শনে প্রথম অনিয়মগুলো সামনে আসে। পরবর্তীতে বিএসইসি, ডিএসই ও সিডিবিএল-এর যৌথ তদন্তে ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে:
◉ সিসিএ হিসাব থেকে লুটপাট: গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাব (সিসিএ) থেকে প্রায় ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
◉ শেয়ার বিক্রি করে উধাও: গ্রাহকের অজান্তে তাদের মালিকানাধীন শেয়ার বিক্রি করে আরও প্রায় ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬১ কোটি টাকারও বেশি।
সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীরা
ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী। তেমনই একজন জানান, তিনি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও লাফার্জহোলসিমের মতো ভালো শেয়ারে তার জীবনের সব সঞ্চয় জমিয়েছিলেন বার্ধক্যের কথা ভেবে। কিন্তু ২০২৫ সালে হিসাব স্থানান্তর করতে গিয়ে দেখেন তার সব শেয়ার বিক্রি হয়ে গেছে, অথচ তাকে ভুয়া পোর্টফোলিও দেখিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।
বিনিয়োগকারীরা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দুদকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দীর্ঘসূত্রিতা শেয়ারবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা ও আইনি প্রয়োগের অভাবকেই প্রমাণ করছে।

