নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক খাতের সার্বিক মূল্যায়ন শেষে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশঙ্কা করছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোক্তা চাহিদা বাড়তে পারে। এতে সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়, সেই হারই নীতি সুদহার বা রেপো রেট। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যালোচনার লক্ষ্যে মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) রিভিউ মিটিং নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ওই সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন, বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম।
সভায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং পূর্বাভাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে মূল্যস্ফীতির ধীরগতিতে কমছে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে নেমেছে, যা এমপিসি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ–বিষয়ক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু অঞ্চলে দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আন্তঃব্যাংক কলমানি এবং রেপো রেট সামান্য কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে সুদের চাপে স্বস্তি এসেছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণচাহিদা এখনো কম; আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবেই এই ধীরগতি হয়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
বৈদেশিক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মাঝারি হলেও আমদানি বেড়েছে। রমজানকে সামনে রেখে জরুরি পণ্যের এলসি মার্জিন শিথিল হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক বলেই মনে করে এমপিসি। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহও ছিল গতিশীল।
তবে কিছু ঝুঁকি সামনে রেখেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কমিটি। আবহাওয়াজনিত কারণে আমন ধানের সম্ভাব্য ক্ষতি, জাতীয় নির্বাচন, রমজান এবং সম্ভাব্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
সবকিছু বিবেচনায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এসডিএফ হার ৮ শতাংশ এবং এসএলএফ হার ১১.৫ শতাংশ বজায় থাকবে।
এমপিসি আরও জানিয়েছে, প্রকৃত নীতিগত সুদহার ৩ শতাংশে না পৌঁছানো পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে, যাতে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে এবং মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

