মার্জিন রুল চ্যালেঞ্জ: দ্বিতীয় রিট আবেদন খারিজ, শুনানি চলবে প্রথমটির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের জন্য ঘোষিত নতুন মার্জিন রুল চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দ্বিতীয় রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, একই বিষয়ে আগে একটি রিট আবেদন বিচারাধীন থাকায় দ্বিতীয় আবেদনটি অপ্রয়োজনীয়।

আবেদনকারীর আইনজীবী মো. কামাল হোসেন জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুজন বিনিয়োগকারী এই রিটটি করেছিলেন। বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার এর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালত আগের সপ্তাহে চারজন বিনিয়োগকারীর দায়ের করা প্রথম রিটটির কথা উল্লেখ করে এই নতুন আবেদনটি খারিজ করে দেন। এর আগে সোমবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ লিভারেজড অ্যাকাউন্ট থেকে ‘ফোর্সড সেল’ বা শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও কিছুক্ষণ পরেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।

আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ নভেম্বর এস এম ইকবাল হোসেনসহ চারজন বিনিয়োগকারীর দায়ের করা প্রথম রিটটির শুনানির জন্য এখনও কোনো তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে গত ১১ নভেম্বর বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিক হাসানের বেঞ্চ এই রুল স্থগিতের আবেদন নাকচ করে দেন। পরিবর্তে আদালত সরকার ও বিএসইসি-র কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন যে, কেন ‘মার্জিন রুল ২০২৫’-এর বেশ কিছু ধারা অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। মঙ্গলবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই রুলের কোনো জবাব দেয়নি।

রিট আবেদনে মার্জিন রুল ২০২৫-এর ধারা ৬(৫), ৬(৬), ৬(৯), ৭(৫), ৭(৬), ৭(৭), ৯, ১০ এবং ১১-কে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, এই নিয়মগুলো সংবিধানের ২৭, ৩১ এবং ৪৪ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। বিশেষ করে ধারা ৬(৫) অনুযায়ী মার্জিন ঋণের মেয়াদ মাত্র এক বছর করা হয়েছে এবং ধারা ৬(৬) অনুযায়ী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নবায়ন না করলে শেয়ার জোরপূর্বক বিক্রির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী, গৃহিণী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মার্জিন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, যাকে ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে রিট আবেদনে।

নতুন নীতিমালায় মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাজারের পি/ই রেশিও ২০ অতিক্রম করলে তা কমিয়ে ১:০.৫ করার নিয়ম রাখা হয়েছে। এছাড়া কোনো কোম্পানি যদি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার মার্জিন অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলার বিধান রয়েছে। ধারা ১১ অনুযায়ী, মার্জিন ঋণের যোগ্য হতে হলে বার্ষিক ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এই নতুন নিয়মগুলো সমন্বয়ের জন্য জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে ছয় মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *