তালিকাভুক্ত ব্রোকারেজের সনদ বাতিল করল ডিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে লেনদেন পরিচালনার অনুমতি পেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক ব্রোকারেজ হাউসের সনদ বাতিল হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ এসকিউ ব্রোকারেজ হাউসের ট্রেডিং সংক্রান্ত নিবন্ধন সনদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসা শুরু করা বাধ্যতামূলক। তবে একাধিকবার সময় বাড়ানো হলেও এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস কার্যক্রম চালু করতে পারেনি।

সনদ বাতিল হওয়ায় এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারে শেয়ার লেনদেন পরিচালনার কোনো আইনি বৈধতা থাকছে না বলে জানিয়েছে ডিএসই। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে কেউ ভুলবশত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কোনো লেনদেন বা আর্থিক কার্যক্রমে যুক্ত না হন।

একই সঙ্গে ডিএসই জানিয়েছে, যদি এরই মধ্যে কোনো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে লেনদেন করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে থাকেন, তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় এসকিউ ব্রোকারেজ হাউসকে শেয়ারবাজারে লেনদেন পরিচালনার জন্য ট্রেক সনদ দেওয়া হয়। এ ধরনের সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোই শেয়ারবাজারে ‘ব্রোকারেজ হাউস’ হিসেবে পরিচিত।

তৎকালীন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটিকে স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার—উভয় সনদই প্রদান করে। স্টক ব্রোকার সনদের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ দেওয়া হয়, আর স্টক ডিলার সনদ প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।

ডিএসই জানায়, কয়েক দফা তাগিদ দেওয়ার পরও এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস ব্যবসা শুরু না করায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেই সনদ বাতিলের আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ডিএসই চূড়ান্তভাবে সনদ বাতিল করেছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় ছিলেন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে কার্যক্রম শুরুর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, যার ফলশ্রুতিতে সনদ বাতিলের আবেদন করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *